চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত নৌপথে চলাচলকারী স্পীডবোটগুলো জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। কুমিরা ও গুপ্তছড়া ঘাটে সারি সারি স্পিডবোট খালের তীরে রাখা দেখা যায়। চালক ও সহকারীরা ইঞ্জিন বন্ধ রেখে ঘাটের দোকান বা টিকিট কাউন্টারের সামনে অলস সময় কাটাচ্ছেন। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে বিশেষ করে ঈদযাত্রার প্রাক্কালে।
স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রলার ও লঞ্চের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। সন্দ্বীপগামী হাবিব বলেন, জরুরি কাজে আমাকে সন্দ্বীপ যেতে হবে। ঘাটে এসে জানলাম স্পিডবোট বন্ধ। এখন কাঠের ট্রলারে যাত্রা করার জন্য অপেক্ষা করছি।
চালক ও সহকারীদের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। স্পিডবোট চালকের সহকারী রহিম বলেন, প্রতিদিন সকালে কাজের আশায় ঘাটে আসি। কিন্তু অকটেন নেই। সারা দিন বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি। এই অবস্থায় কী করা হবে, বুঝে উঠতে পারছি না।
স্পিডবোটচালক মফিজ বলেন, আট দিন ধরে বোট বন্ধ। যাত্রীরা চাপ দেন কিন্তু তেলের অভাবে আমাদের কিছু করার থাকে না।
কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথে তিনটি কোম্পানি স্পিডবোট পরিচালনা করে। তেলসংকটের কারণে সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিসের সব বোট বন্ধ থাকলেও আরকে এন্টারপ্রাইজ ও আদিল এন্টারপ্রাইজ মিলিতভাবে ২৫টি বোটে যাত্রী পরিবহন করছিল। স্বাভাবিক সময়ে এই দুই কোম্পানির দৈনিক অকটেনের চাহিদা থাকে প্রায় তিন হাজার লিটার। ঈদের সময় যাত্রী চাপ বেড়ে চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লিটারে। ৭ মার্চ থেকে কেউ অকটেন পায়নি।
আরকে এন্টারপ্রাইজের মালিক জগলুল হোসেন বলেন, চালক, সহকারী, টিকিট মাস্টার, লাইনম্যান সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন কর্মী আছে। স্পিডবোট বন্ধ থাকায় তারা কাজ করতে পারছেন না। মাস শেষে বেতন দিতে হবে কিন্তু আয় নেই। ঘাটের ইজারাও দিতে হচ্ছে।
সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদ সামনে রেখে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে তেল কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি ঈদের আগেই সমস্যা সমাধান হবে।
জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। ঈদের যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সমাধান ছাড়া যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করা কঠিন হবে।