জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের কাঁচাবাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়ে ১০০ টাকার ওপরে উঠে গেছে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে দেখা যায়, বেগুন, পটল, কাঁকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। বর্তমানে কাঁকরোল প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং শসা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা প্রতি কেজি প্রায় ১১০ টাকা এবং বরবটি প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক কম হলেও আগের তুলনায় সেগুলোর মূল্যও বেড়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স প্রায় ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং কচুর লতি প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি প্রায় ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই মূলত দাম বাড়ার প্রধান কারণ। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার এক খুচরা ব্যবসায়ী জামাল বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর থেকে ট্রাক ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। আগে যেখানে দূরপাল্লার একটি ট্রাকের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া ছিল, এখন সেই ভাড়া ২ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
আরেক বিক্রেতা হাবিব জানান, কাঁচা বাজারের পণ্যের দাম সাধারণত ফলন, সরবরাহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব সবজির বাজারে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব সবজি ঢাকায় আনা হয়। এর সঙ্গে তীব্র গরমের কারণে দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকায় দাম বেড়ে যায়।
খুচরা বিক্রেতারা আরও জানান, সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত এক-দুই মাস ধরে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে এসে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ক্রেতাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বাজারদর বৃদ্ধি সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।