দখল, দূষণ ও খনন সংকটে গাইবান্ধার আলাই নদী নাব্য হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। প্রবাহ না থাকায় এবং অতিরিক্ত পলি জমে নদীটি ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা ও শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। এতে নদীপারের কৃষিজমিতে সেচ ও দৈনন্দিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য।
জানা গেছে, জেলার ওপর দিয়ে আলাই ছাড়াও বয়ে গেছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, করতোয়া, ঘাঘটসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদী। এর মধ্যে আলাই পৌর এলাকার ঘাঘট নদ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এটা শহরের পুলবন্দী হয়ে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়ন ও সাঘাটার ভূতমারা হয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী নদীতে মিশেছে।
নদীটির দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ৩৯ মিটার। শুকনো মৌসুমের মার্চ-এপ্রিলে নদীটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। তবে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
রবিবার (১০ মে) সরেজমিন পুলবন্দী গিয়ে দেখা যায়, শহরের ড্রেনের ময়লা ও আবর্জনাযুক্ত পানি নদীতে যাচ্ছে। দুই পার দখল করে চাষাবাদসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পলি জমার আগে প্রায় সারা বছরই পানি থাকত। নদীর পানি দিয়ে তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমিতে সেচ দেওয়া হতো।
কিন্তু নদীটি দখল-দূষণের ফলে বর্তমানে পরিণত হয়েছে মরা খালে। এতে যেমন বাড়ছে খরচ তেমন পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
তাদের অভিযোগ, আলাই নদী একবারও সংস্কার বা খনন করা হয়নি। বছরের পর বছর পলি জমে নদীটি ভরাট হয়ে পড়েছে। বর্ষায় উজান থেকে ঢল নামলে নদীটি পানি ধারণ করতে পারে না। এতে ডুবে যায় আশপাশ এলাকা। স্থানীয় মতিয়ার রহমান নদীতে ধান আবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, নদীতে পানি না থাকায় ১০-১২ বছর ধরে ধান আবাদ করছি। এটি খনন করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে স্থানীয়দের উপকার হতো।
বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুর আলম বলেন,নাব্য সংকটের কারণে আলাই নদীতে পানি নেই। স্থানীয়রা সেখানে নানা ফসল আবাদ করছেন।নদীটি খনন করে নাব্য ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, নদীশাসন না হলে একসময় হয়তো নদীটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তাই অস্তিত্ব রক্ষায় এটি খনন ও সংস্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, আলাই নদীর খননব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নদী রক্ষায় যা যা প্রয়োজন তা করা হবে।