সরকার প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন হবে না।
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, একাধিক কার্ডের প্রয়োজন নেই। প্রবাসীরা একক কার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
তিনি জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চূড়ান্ত সুবিধাসমূহ নির্ধারণের কাজ চলমান। সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো, ব্যাংকিং গেটওয়ে কার্যক্রম ও কারেন্সি সংক্রান্ত সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে। সোমবার জারি হওয়া অফিস আদেশ অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকেই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। সেলটি পাঁচ সদস্যের, আহ্বায়ক হিসেবে মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মী শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের পরও কতজন কর্মী আটকা পড়েছেন, তার তালিকা তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকার গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা বিশেষ বিবেচনায় পুনরায় যেতে পারেন বা সময়সীমা বাড়ানো যায়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, সচিব মোখতার হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।