চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিজরা খালের সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানিয়েছে, এ খালের প্রায় ৬৮ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় চলমান খাল সংস্কার কাজ পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৬টি খাল সংস্কারের দায়িত্ব সিডিএকে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি খালের কাজ শেষ হয়েছে। আরও কয়েকটি খাল শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বহুল আলোচিত হিজরা খাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই খালের সংস্কার কাজ বর্তমানে ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নগরীতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী গড়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনরুদ্ধার কাজে অনেক স্থাপনা অপসারণ করতে হয়েছে যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বাধা অতিক্রম করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সিডিএর আওতাধীন ৩৬টি খাল প্রকল্প ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা খালগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেলায়েত হোসেন আশা প্রকাশ করেন, চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে এবং নগরবাসী স্বস্তি পাবে। সকল খালগুলো যদি আমরা একসাথে সংস্কার করতে পারি তাহলে আমার মনে হয় জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামে আর থাকবে না।
সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অগ্রাধিকার কী জানতে চাইলে বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী, পূর্তমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আগামী ডিসেম্বরের ভিতরে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শেষ করে পিএম এর মাধ্যমে এগুলো উদ্বোধন করে চট্টগ্রামে একটা চমক সৃষ্টি করার জন্য।
সেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল- জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, উড়ালসেতু (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) এবং আউটার রিং রোড। এগুলো আমরা এর ভিতরে শেষ করব। প্রত্যেকটা সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে খুব কম সময়ে চট্টগ্রামে একটা মিরাকল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে নতুনভাবে চট্টগ্রামকে দেখবেন। একটা সবুজ, নান্দনিক ও সুন্দর নগরী আমরা উপহার দিতে চাই।
বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএ কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই তিন প্রকল্পই ঘুরে দেখেন সিডিএ চেয়ারম্যান।