
রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের নারী নেত্রী ও কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তি’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে রোববার (৮ মার্চ)।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং নতুন এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটি দলীয় নারী সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির নারীদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের নারী সংগঠক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এবং নারী নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষিত নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ঘোষণার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নারী নেত্রীদের একটি অংশের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
এ সময় দলের কয়েকজন নারী সদস্য সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ও রাজনৈতিক কর্মী ডা. তাসনূভা জাভিন দলত্যাগ করে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।
এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই নারী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ দলটির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকেই এখন নজর রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের।