কালবৈশাখী বা মৌসুমি ঝড়ের সময় সাধারণত আমরা বাইরে নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ এবং গাছপালার প্রতি বেশি মনোযোগ দিই। তবে ঘরের ভেতরের ইন্টারনেট লাইন বিশেষ করে ওয়াইফাই রাউটার নিয়ে সচেতনতা কম থাকে। ঝড়ের সময় এই সরঞ্জামগুলো চালু রাখলে কি সত্যিই ক্ষতি হতে পারে তা জেনে রাখা জরুরি।
ঝড়ের সময় মূলত তিন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয় বজ্রপাত, বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা এবং হঠাৎ পাওয়ার সার্জ। এই সার্জ শুধু বৈদ্যুতিক লাইনের মধ্য দিয়ে আসে না, ইন্টারনেট কেবল ব্রডব্যান্ড বা ফাইবার দিয়েও সরাসরি ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে রাউটার, মডেম এবং সংযুক্ত ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা অন্যান্য ডিভাইসও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ওয়াইফাই চালু থাকলে ঝড়ের সময় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বজ্রপাত বা সার্জের কারণে রাউটার পুড়ে যেতে পারে, মডেম বা ওএনটি ডিভাইস নষ্ট হতে পারে এবং সংযুক্ত ডিভাইসও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। যদিও সব সময় এমন ঘটনা ঘটে না ঝুঁকিটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
ঝড় তীব্র হলে ওয়াইফাই বন্ধ রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে যদি বজ্রপাত হয়, বিদ্যুৎ বারবার যাওয়া-আসা করে, অথবা ঝড়ের তীব্রতা বেশি থাকে। এই অবস্থায় শুধু সুইচ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। বিদ্যুতের লাইনে সার্জ এলে তা সুইচ অফ থাকার পরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাউটার ও মডেমের পাওয়ার প্লাগ সম্পূর্ণভাবে খুলে রাখা এবং সম্ভব হলে ল্যান বা ফাইবার কেবলও খুলে রাখা সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।
অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য সার্জ প্রোটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে। ইউপিএস থাকলেও কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া ভালো মানের রাউটার ব্যবহার করলেও ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
হালকা বৃষ্টি বা স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ওয়াইফাই বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। সতর্কতা মূলত বজ্রসহ ঝড় বা তীব্র আবহাওয়ার জন্য। যেমন আমরা ঝড়ের সময় জানালা-দরজা বন্ধ রাখি তেমনি রাউটার বন্ধ রাখাও একটি ছোট্ট কিন্তু কার্যকর সতর্কতা। সাময়িক ইন্টারনেট বন্ধ থাকা কিছুটা অসুবিধা দিতে পারে, কিন্তু একটি ডিভাইস নষ্ট হয়ে গেলে তার ভোগান্তি অনেক বেশি। তাই ঝড়ের সময় রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সচেতন হওয়া দরকার। একটি ছোট সতর্কতা—যেমন ওয়াইফাই বন্ধ রাখা আপনার ডিভাইসকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে এবং সাময়িক অসুবিধা সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়।