জাপানের রাজধানী টোকিওতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্টেরিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরাম’, যার লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ। এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, যিনি বর্তমানে টোকিও সফরে রয়েছেন।
ফোরামটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ইউএস ন্যাশনাল এনার্জি ডোমিনেন্স কাউন্সিল এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব ডগ বারগাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসেই।
ফোরামে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লিস্তে ও ভিয়েতনাম। এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো হলো দ্রুত সরবরাহযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা।
ফোরামের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে না, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ও মনে করছে, এই ধরণের আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি বিনিময়, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা এই ফোরাম থেকে পাওয়া সম্ভব।