ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রেললাইনের পৃথক দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাতের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও তদন্তের পর জানা গেছে, মৃত ব্যক্তি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে ছিলেন। পরিচয় না মেলায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কিশোরগঞ্জ পৌর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ৩নং সরিষা ইউনিয়নের ৫৩ নং বৈরাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রেলব্রিজের পাশে একটি হাতের কবজি ও পাঁচ আঙুলসহ খণ্ডিত অংশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
এর কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে পার্শ্ববর্তী ২নং সোহাগী ইউনিয়নের সোহাগী বাজার রেলক্রসিংয়ের ২০ হাত পশ্চিমে হাতের কনুই পর্যন্ত আরেকটি বিচ্ছিন্ন অংশ পড়ে আছে। রেললাইনের দুই প্রান্তে মানুষের দেহাংশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা যায়, রেলওয়ে কিলোমিটার ২৯৪/৩,৪ নীলগঞ্জ-মুসুল্লি সেকশনের আওতাধীন নান্দাইল উপজেলার মেরেঙ্গা বাজারের পূর্ব পাশে জনতার বাজার নামক স্থানে 37 আপ নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় দেহাংশগুলো ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল করলে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে ঘটনাস্থল রেলওয়ের আওতাধীন (জুরিসডিকশন) হওয়ায় পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের খণ্ডাংশগুলো উদ্ধার করেন।
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার কনস্টেবল (মুন্সি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে মেমো পাওয়ার পর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-৪) রুজু করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি।