প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় পৌঁছানো মানে ডায়াবটিসের একধাপ আগে আসা আর এই সময় থেকেই খাবারদাবারে সঠিক পরিবর্তন আনতে না পারলে মিষ্টির মাত্রা বাড়তেই থাকে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর গবেষণায় প্রমাণিত যে, প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় জীবনধারায় কিছু প্রয়োজনীয় বদল আনলে সুগারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এই বদলগুলো শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয় শরীরচর্চাও জরুরি। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো কী ধরনের খাবার প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে একেবারে পরিহার করা উচিত তা জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কার্বোনেটেড পানীয়
সব রকমের নরম পানীয়, সোডা বা প্যাকেটজাত ফলের রস প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। এই পানীয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, কৃত্রিম রং এবং রাসায়নিক উপাদান থাকে যা সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।
শুধু তা-ই নয় এগুলো লিভার এবং কিডনির ক্ষতিও করতে পারে। এর ফলে ইনসুলিনের ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা ডায়াবটিসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভাজাভুজি ও ট্রান্স ফ্যাট
যেকোনো ধরনের ভাজা খাবার বা দোকান থেকে কেনা বার্গার ও পিৎজা খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, নাইট্রেট এবং ট্রান্স ফ্যাট থাকে যা শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে সাহায্য করে। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং স্থূলতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ফ্রোজেন ফুড
সসেজ, বেকন, সালামি, এবং ফ্রোজেন ফুড যেমন চিকেন নাগেট-ও প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই ধরনের খাবারে রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে যা শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং টক্সিন বাড়াতে সাহায্য করে।
খুব পরিচিত একটি খাবার কর্নফ্লেক্স। অনেকেই সকালে তাড়াহুড়োয় কর্নফ্লেক্স খান। কিন্তু প্যাকেটজাত কর্নফ্লেক্স এবং অন্যান্য ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালগুলিতে চিনি যোগ করা থাকে যা খুবই ক্ষতিকারক। এতে শরীরে অতিরিক্ত মেদ বাড়ার ঝুঁকি থাকে আর এটা ডায়াবিটিসের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়।
প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন : সবজি, ফল, প্রোটিন এবং হার্বস খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিন। এর পাশাপাশি শরীরচর্চা এবং নিয়মিত মেডিকেল চেক-আপও গুরুত্বপূর্ণ।
যদি প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় থাকেন তবে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং সঠিক চিকিৎসা মেনে চলাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।