ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। এছাড়া ক্রয়ক্ষমতার হ্রাসের কারণে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগে মন্থরতা, জ্বালানির অনিশ্চয়তা এবং কম কর্মসংস্থান সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডিসিসিআই মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় তথ্যের ঘাটতি পূরণ এবং অর্থনীতির পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইপিআই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালের তথ্য ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন ও সেবা খাতের মোট ৭৬২ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে উৎপাদন স্থবির হয়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতার হ্রাসে সেবাখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অর্থনীতির পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য ডিসিসিআই সুপারিশ করেছে: বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এসএমই উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করা, ভ্যাট হার কমানো এবং লাইসেন্সিং সেবায় হয়রানি কমানো।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।