নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রামীণ কৃষিজীবীর ভাগ্য বদলে দিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’ এর উদ্বোধন করবেন।
এই উদ্যোগ মূলত চার দশক আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির পুনর্জাগরণ। তখন খালের পানির নিয়মিত ব্যবস্থাপনা এবং সেচ সুবিধার ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বন্যা ও খরার প্রভাব কমে এবং গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন খাল খননের সুবিধা:
আধুনিক কৃষি: বৈজ্ঞানিক সেচ ব্যবস্থাপনা কৃষকের খরচ কমাবে, ফসলের উৎপাদন বাড়াবে।
বহুমাত্রিক অর্থনীতি: খালে পানি থাকলে মাছচাষ, হাঁসপালনসহ অন্যান্য গ্রামীণ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে প্রবৃদ্ধি।
দুর্যোগ প্রতিরোধ: সাহাপাড়া খালের ১২ কিমি খননে সাড়ে তিন লাখ মানুষ বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে।
পরিবেশ ও বনায়ন: খাল, বাঁধ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে খাল দখলদারদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর সঙ্গে খালের সঠিক সংযোগ নিশ্চিত করা না হলে প্রকল্পের ফলাফল ব্যাহত হতে পারে।
পানিসম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির যৌথ উদ্যোগে প্রথম ধাপে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কাজ শুরু হচ্ছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যাতে শুধু কাগজে-কলমে বা দলীয় প্রভাবের শিকার না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতে, এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে কাজ করতে হবে নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ ও প্রবাহ ঠিক করে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং যেখানে জলাবদ্ধতা বেশি সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, খাল খননের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে যদি দখলদারদের কঠোর হস্তে দমন করা না হয়। রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে কেউ যেন নতুন করে খাল দখল বা দূষণ করতে না পারে সরকারকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
জিয়াউর রহমানের সেই কোদাল থেকে আজকের আধুনিক ড্রেজার মাঝে কয়েক দশকের ব্যবধান থাকলেও লক্ষ্য একই: কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার খাল দখলের রাজনীতি বন্ধ রেখে প্রকল্পটি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।