দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। তাই দেশের স্থিতিশীলতা ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় তাদের দল ফলাফল গ্রহণ করেছে।
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, প্রায় সাড়ে ১৭ বছর পর দেশবাসী একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল। তাঁর মতে, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ভালো থাকলেও ফলাফল প্রত্যাশিত হয়নি এবং ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থে তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দল চরমপন্থা নয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে। তবে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হলে এবং সংসদে সমাধান না এলে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজপথেও আন্দোলন চালানো হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে করের আওতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণকাজ স্থগিতের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধর্মের মানুষই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াক না কেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের পুলিশের নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে।
এ সময় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।