সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর কড়াইল এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনের দিন থেকেই নির্বাচিত পরিবারগুলোর কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে।
এই কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ সোমবার দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। সুবিধাভোগীদের একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে তাদের পরিবারভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রথমে বগুড়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ঢাকার কড়াইল এলাকায় উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর কয়েকটি বস্তি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ঢাকার কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল (শাহ আলী) ওয়ার্ড–৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড–১৪ এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায় এই কার্যক্রম চালু হবে।
এ ছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য পাঁচ স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা (শহর) কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, পৌর কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সবচেয়ে উপরে থাকবে মন্ত্রিসভা কমিটি, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়া জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিও কাজ করবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সরকারি নীতিপত্র অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ব্রাজিলে একই ধরনের পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি চালুর ফলে দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধান দায়িত্ব পালন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নারী ও শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ ও পরিকল্পনাসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয় এতে সম্পৃক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প চালু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে প্রথমে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হবে না।
জানা গেছে, পরিবারের মা বা নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। কার্ডধারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। কার্ডে নাগরিকের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে (সোশ্যাল আইডি) রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।