ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য। সংগঠনটির মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে।
শনিবার (১৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজেট নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় এফবিসিসিআই। এতে বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হলেও এটি বিনিয়োগবান্ধব ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এফবিসিসিআই বলছে, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করায় অর্থমন্ত্রীকে এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। সরকারের প্রথম ও বিএনপি সরকারের ১৩তম বাজেট দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসার পরিবেশ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
এজন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় বাজেটে ত্রিআর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুন:প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
এফবিসিসিআই বলছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (১৮.৭ শতাংশ) বেশি। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসৃজন সৃষ্টি, বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সুবিধা বঞ্চিত জনগণকে সুবিধা প্রদান এবং সর্বোপরি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে এ বাজেটের আকার অবাস্তব নয়। তবে দেশের ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।
বাজেটে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
এফবিসিসিআই প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ঘাটতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৬ শতাংশ।
এফবিসিসিআইয়ের মতে, ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে যার ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এফবিসিসিআই আরও জানায়, ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে তুলনামূলক সুলভ সুদে ও সতর্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সংগঠনটি বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। তাদের মতে, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়ন আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব।