দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রেখেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সাপের উপদ্রবের কথা বিবেচনায় রেখে তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ২১টি করে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আরও এক হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি কলেরা স্যালাইন, ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট খাবার স্যালাইন (ওরস্যালাইন) এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।
এ ছাড়া ৪৪ হাজার ১৭৫টি ডেঙ্গু কিট মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ৭৫ হাজার ৭৪৫টি কিট সংরক্ষিত রয়েছে। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-তে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন মজুত আছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল প্রাথমিক চিকিৎসা, পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে বন্যা দেখা দেওয়ার পরপরই ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ হেল্পলাইন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগের তথ্য এখন কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।