রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) তে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে সিনিয়র প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দুদক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বণ্টন ও অনিয়মের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রায় ১৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টুডিওওয়াচকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিটিভির সম্প্রচার ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং বাস্তব প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, বিটিভির অধিকাংশ টেন্ডার একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, কম দরদাতাকে বাদ দেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
একই সঙ্গে ১৪টি উপকেন্দ্রে সাব-স্টেশন স্থাপনের প্রকল্পেও নিম্নমানের কাজ ও ত্রুটিপূর্ণ বাস্তবায়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুদক বিটিভিকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্প, ক্রয়, ব্যয় ও বিদেশ সফর সংক্রান্ত নথি জমা দিতে বলেছে। সাত বছরের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে এবং প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ভাঙচুরকে ব্যবহার করে আগের অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দুদক বলছে, সব নথি যাচাই শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।