মৌলভীবাজারে সম্প্রতি অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানির তোড়ে বেশ কিছু বাঁধ ভেঙে গিয়ে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে এবং হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, "ই মৌসুমে যেখানে এক মাসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে গত তিন দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে লাউয়াছড়া খালের বাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভানুবিল ও ছড়াগাঁও গ্রামের কিছু অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নীলমণি সিংহ জানান, এখন আমাদের গ্রামে হাঁটুসমান পানি রয়েছে, রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে এবং লোকজন হাঁটু পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক বাসিন্দার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের ক্ষতি হয়েছে।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রোশন আলী জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
মৌলভীবাজারের হাওর অঞ্চলের কৃষকরা এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা একটানা বৃষ্টির মধ্যে ফসলের ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষ করে বোরো ধান যা সাধারণত মার্চ-এপ্রিলে কাটার সময়। এবার তা সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
হাকালুকি হাওর এলাকার কৃষক সুকমল রায় বলেন, ধান কাটতে পারলেও কিছু ফসল বাঁচাতে পারিনি। এখন পর্যন্ত আমার জমির ২ বিঘা পানির নিচে চলে গেছে।
কৃষক সাজু আলম জানাচ্ছেন, এক সপ্তাহ ধরে রোদ নেই, ধান শুকানো যাচ্ছে না। প্রথমে পানি ক্ষতি করেছে। এখন বৃষ্টি ধ্বংস করে দিচ্ছে।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, এ বছর জুড়ীতে ৬,১৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৫০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ৮,৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৩৮০ হেক্টর জমি ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ২,৮০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এই বন্যার ফলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন গ্রামে সড়ক যোগাযোগ, কৃষকরা নিজেদের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকার দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।