চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোক ও কান্নায়। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার এক পরিবারের জন্য মঙ্গলবার রাতটি হয়ে উঠল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি। রংপুর থেকে চিকিৎসা শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একই এলাকার পাঁচজন, আহত হন আরও অন্তত নয়জন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার বাঁশের তল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক কুড়িগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। একই সময় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ভূরুঙ্গামারীগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পথে আরও দুইজন মারা যান। সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের যাদের মধ্যে একজন ছিলেন মাইক্রোবাসচালক।
নিহতদের সবাই ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন শামীম হোসেন (৩২), তার আট বছরের মেয়ে ছাদিয়া, বাবু মিয়ার স্ত্রী তামান্না (২৮), মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. নুরনবী (২৮) এবং সাইফুর রহমানের ছেলে মো. লিমন (৩০)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমন পেশায় মাইক্রোবাস চালক ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
ধবার সকালে নিহতদের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি, কান্না আর শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে দুর্ঘটনাস্থল নাগেশ্বরী থানার আওতাধীন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা তারাই গ্রহণ করবেন।