ঢাকার বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ রাত জুড়ে তেলের জন্য মানুষদের নির্ঘুম অপেক্ষা দেখা গেছে। উত্তরের মহাখালী থেকে দক্ষিণ তেজগাঁও পর্যন্ত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক কামরুল হাসান ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন মাত্র ৬০০ টাকার তেলের জন্য। রাত ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর সোয়া ৪টায় তেল পাওয়া পর্যন্ত তার ক্লান্তি ও অসুবিধার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি জানান, এই অল্প তেল সাধারণত দুই-তিন দিন চলতে পারে, এবং সপ্তাহে কয়েকবার এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য সময় ও শ্রম খরচ করতে হচ্ছে।
পাম্পের সহকারী সেলস সুপারভাইজার মাসুদ কবির জানান, সরবরাহ আগের তুলনায় কমেছে প্রতিদিন ৫০–৫২ হাজার লিটার থেকে কমে ৩৭–৪০ হাজার লিটারে। তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ‘প্যানিক বায়িং’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাদের ট্যাঙ্কি অর্ধেক পূর্ণ, তারাও তেলের অভাবে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকের জন্য আলাদা লাইন স্থাপন করেছে। কিন্তু ভিড় সামলানো এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ লাইনে কেউ মোটরসাইকেলের ওপরই মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন, কেউ লুডু খেলছেন, আবার কেউ সড়ক বিভাজকের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তেলের জন্য রাতভর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ক্ষুধা মেটাতে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে।
শৌচাগারের জন্যও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত এই পাম্পের আশপাশে ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার বসানো হয়েছে, যেখানে অনেক মানুষ ব্যবহার করছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রাখতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে—
ব্যক্তিগত গাড়ি: সর্বোচ্চ ২,৪০০ টাকা মূল্যের তেল, মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা, মালবাহী ট্রাক: সর্বোচ্চ ১০০ লিটার।
তবে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা এখনও সমাধানের অপেক্ষায়। তারা চাইছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক যাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে না হয়।
শনিবার দিবগত রাত পেরিয়ে রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায়ও লাইনে মানুষের ভিড় কমেনি। শত শত মানুষ, যেমন কামরুল হাসান বা ট্রাক চালক জামিল খান, পরবর্তী দিনের তেলের নিশ্চয়তার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
ঢাকার বেশিরভাগ পেট্রলপাম্প এখন রাতে বন্ধ থাকলেও হাতে গোনা কিছু পাম্প খোলা রয়েছে, যেখানে এখনও মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি চলতে থাকবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।