২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত রেকর্ড মুনাফার মধ্যেও শেয়ারবাজারে অধিকাংশ ব্যাংক দুর্বল অবস্থায় রইল। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২১টির মুনাফা বেড়েছে, তার মধ্যে দশটি ব্যাংক একক বছরের রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবু শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ-নীতি না মানায় ১৫টি ব্যাংককে ‘জেড’ বা দুর্বল শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
রেকর্ড মুনাফা করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। ব্র্যাক ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে ২,২৫১ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংকের ১,৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের ১,০৯০ কোটি টাকা হয়েছে। তবে এই মুনাফার বড় অংশ এসেছে জনসাধারণের আমানতের অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজ (বিল-বন্ড) বিনিয়োগ থেকে।
ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, সাবেক বিআইবিএম মহাপরিচালক বলেন, রুলস-রেগুলেশন মেনে চললে কোনো ব্যাংক বিপদে পড়বে না। খেলাপি ঋণ কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামও বলেন, সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ নিরাপদ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয় কারণ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না।
অন্যদিকে, ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এসবিএসি, রূপালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। সর্বোচ্চ লোকসান হয়েছে এবি ব্যাংকে (৩,৮৮৯ কোটি টাকা) এবং আইএফআইসি ব্যাংকে (২,৫৬০ কোটি টাকা)।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য দরকার খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন। যেসব ব্যাংকে সুশাসন ও যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। তারা ভালো মুনাফা করছে অন্যরা বিপদের সম্মুখীন।