বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ইউটিউব দেখে শখের বশে ছাদে আঙুর চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছেন আব্দুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা এই কসমেটিক ব্যবসায়ী এখন নিজের ছাদ বাগানকে পরিণত করেছেন এক অনন্য সম্ভাবনার উদাহরণে।
তিনতলা বাড়ি নির্মাণের পর ছাদটিকেই তিনি কাজে লাগান ফল ও সবজি চাষে। প্রথমে ইউটিউবের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মাত্র দুটি আঙুর গাছ রোপণ করেন প্রায় তিন বছর আগে। সেই পরীক্ষামূলক চাষেই সফলতা আসে গাছে ফল ধরে এবং পরিবারের সবাই মিলে মিষ্টি স্বাদের আঙুর উপভোগ করেন।
বর্তমানে তার ছাদ বাগানে রয়েছে প্রায় ১০টি আঙুর গাছ। দ্বিতীয়বারের মতো এবারও গাছগুলোতে ব্যাপক ফলন এসেছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ ও অর্ধপাকা আঙুর, যা দূর থেকেই নজর কাড়ছে পথচারীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির দোতলার ছাদজুড়ে বাঁশের মাচায় ছড়িয়ে আছে আঙুর লতা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নানা আকৃতির আঙুর। পাশাপাশি পুরো ছাদজুড়ে রয়েছে ৩৫ প্রজাতির বিদেশি ও দেশি ফল ও সবজির গাছ আপেল, আম, পেয়ারা, লেবু, ড্রাগন, কমলা, লিচু, জাম্বুরা, সফেদা থেকে শুরু করে লাউ, পুঁইশাক, কুমড়াসহ নানা সবজি।
আব্দুর রহমান জানান, প্রথমদিকে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। স্থানীয়রা বলতেন, এ এলাকায় আঙুর চাষ সম্ভব নয় হলেও তা টক হবে। কিন্তু তিনি হাল না ছেড়ে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যান। ফল ধরার পর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।
তিনি আরও জানান, ইউটিউব দেখে শিখেই মূলত ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন। ফেব্রুয়ারিতে ডাল ছাঁটাই, মার্চে ফুল এবং জুন-জুলাইয়ে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এখন তার বাগানে বাইকুনুর, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ব্ল্যাক রুবি, ব্ল্যাক জাম্বুসহ ১০ জাতের আঙুর রয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময়।
এ বছর তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা হতে পারে। তার ভাষায়, এ বছরই খরচ উঠে আসবে বলে আশা করছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, আব্দুর রহমানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার ছাদ বাগান স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।