সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই রাজনীতিক মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তাসনিম জারা জানান, তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।
নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বিবেচনা করলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, সংসদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নিজের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাননি।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো এটি সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে নয়।
তাসনিম জারা তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সমস্যাটি কোনো ব্যক্তির নয় বরং পুরো কাঠামোর। তার মতে, যেসব সংসদ সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তারা জনগণের কাছে বেশি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নে আসা সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে সেই জবাবদিহির জায়গা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এমনটাই তার পর্যবেক্ষণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হলেও তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসা উচিত।
তার মতে, সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা থাকলেও তা জনগণের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে হওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সীমিত সময়ের প্রচারণা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি ফলাফল মেনে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সংসদে গেলে সেটি জনগণের ভোটের মাধ্যমেই হবে বলেও তিনি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তাসনিম জারা জানান, সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব এবং তিনি সেই পথেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তার মতে, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন না করেও জনগণের জন্য অবদান রাখা যায়।