ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় মোঃ শামীম হোসেন স্বপন (৩৬) নামে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫এপ্রিল) বেলা ১২টার সময় ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার (২৪এপ্রিল) পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদাকে খুন করার কথা স্বীকার করে শামীম। এই ঘটনায় নাহিদার মামা খোকন হাওলাদার বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম হোসেন স্বপন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার রহিমপুর গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে তার স্ত্রী নিয়ে ধামরাই পৌরশহরের লাকুড়িয়াপাড়া মোঃ সাব্বির হোসেনের বাড়ীতে ভাড়া থাকে। তার স্ত্রী ধামরাই স্নোটেক্স গার্মেন্টস এ চাকরি করে।
নিহত নাহিদা আক্তার ধামরাই পৌর শহরের পশ্চিম লাকুরিয়াপাড়া এলাকার মোঃ নুর হোসেনের মেয়ে। নাহিদা নানীর সাথে সাব্বিরের ৫ম তলা বাড়ীর নিচ তলা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেন্ট্রাল স্কুলে পড়া শোনা করত। সে ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল।

ধামরাইয়ে রাজমিস্ত্রীর হাতে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তার
পুলিশ জানায়, শামীম ওরফে স্বপন একজন রাজমিস্ত্রী এবং তার স্ত্রী স্নোটেক্স গার্মেন্টস এ চাকরি করে। শামীম অনলাইন জুয়া খেলে নিজের টাকা শেষ করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ঋণ হয়ে পড়ে। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) সকালে নাহিদার নানীর কাছে টাকা চায় শামীম। কিন্তু নাহিদার নানী দেলোয়ারা বেগম তাকে টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। এরপর নাহিদা এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে বাসায় আসলে শামীম নাহিদার কাছে টাকা ধার চায়। নাহিদা শামীমকে বলে আমার কাছে টাকা নাইা। এরপর নাহিদার নানী দুধ আনতে বাহিরে গেলে শামীম সুযোগ বুঝে বিকেল ৫টার দিকে নাহিদার ঘরে ঢুকে প্রথমে ওড়না দিয়ে নাহিদার গলায় পেচিয়ে ধারালো কাটার দিয়ে গলায় পোচ দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে শিল/পোতা দিয়ে কপালে আঘাত করে থেতলে দিয়ে নাহিদার কানের স্বর্ণের দোল ও গলার চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়।
নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, নাহিদার মা লিজা বিদেশ থাকায় নাহিদাকে নিয়ে সাব্বির হোসেনের বাড়ীতে ভাড়া থাকি। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় নাহিদাকে ঘরে রেখে দুধ আনতে বাহিরে যাই। অনুমান এক থেকে দেড় ঘন্টা পর বাসায় আসে দেখি ঘরের দরজা খোলা এবং নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে৷ এই সময় আমি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। নাহিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান জানান, পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শামীমকে গ্রেপ্তার করি। এই সময় তার কাছ থেকে কানের দোল ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও শিল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শামীম নাহিদাকে খুনের কথা স্বীকার করে। আজ সকালে শামীম হোসেন স্বপনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।