দেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা ও কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমকে জোরদার করতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে কৃষকদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয় ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ দিয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি চারা শুধু বিতরণই নয় বরং একটি সম্পূর্ণ সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে দেওয়া হবে। এর সঙ্গে কৃষকরা পাবেন জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি।
মোট বরাদ্দের অর্থ কয়েকটি খাতে ভাগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে—
চারা ক্রয়: ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা
জৈব সার (গোবর): ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা
বাঁশের খুঁটি: ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা
পরিবহন ব্যয়: ৭ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা
আনুষঙ্গিক ব্যয়: ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা
এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে মোট ১৬ লাখ ২৮ হাজার বাঁশের খুঁটি এবং প্রায় ৪৮ হাজার ৮৪০ টন জৈব সার বিতরণ করা হবে।
চারার ধরন ও ব্যবহার অনুযায়ী কর্মসূচিকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি চারা বিতরণের সঙ্গে ৩০ কেজি জৈব সার এবং একটি করে বাঁশের খুঁটি যুক্ত থাকবে।
ক্যাটাগরি–১: নারিকেল চারা—প্রতি ইউনিট ব্যয় ৪১০ টাকা
ক্যাটাগরি–২: আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ—প্রতি ইউনিট ব্যয় ৩১০ টাকা
ক্যাটাগরি–৩: মাল্টা, জলপাই, করমচা—প্রতি ইউনিট ব্যয় ২৯০ টাকা
ক্যাটাগরি–৪: মেহগনি, নিম, সুপারি, জাম, বহেরা, কড়ইসহ বনজ ও অর্থকরী গাছ—প্রতি ইউনিট ব্যয় ২৪০ টাকা
প্রতিটি ক্যাটাগরিতে চারা, সার, খুঁটি, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা
কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ–২০০৬) এবং বিধিমালা (পিপিআর–২০০৮) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী—
নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে কোনো ব্যয় করা যাবে না
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি পুনর্বাসন কমিটির যৌথ তত্ত্বাবধানে অর্থ ছাড় হবে
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীর তালিকা তৈরি করবেন
একজন কৃষক সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন
জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
উদ্বোধন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কৃষি অফিসগুলো মাঠ পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছেন, আগামী ১৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। একই দিনে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
সরকারের লক্ষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো।