বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী) কে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ।
রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ১৫ জুলাই মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিতে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার খালাস প্রার্থনা করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে এস কে সুর এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণ দাখিলের জন্য দুদক নোটিশ দেয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নোটিশ গ্রহণ করলেও আইনে নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেননি।
এ কারণে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ থেকে অবসরে যান।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ, ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এস কে সুর আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) সংশ্লিষ্ট ঋণ কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতা করেন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেন।