দীর্ঘদিন দেশের শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে থাকার পর আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক রুমানা মালিক মুনমুন। তবে এবার কোনো প্রচলিত বিনোদন অনুষ্ঠান নয় বরং দেশের বরেণ্য শিল্পী ও সংস্কৃতিজনদের জীবন, কর্ম ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত গবেষণাভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি’-র মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন।
একসময় টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হিসেবে উপস্থাপনায় দর্শকদের মন জয় করা মুনমুন ব্যক্তিগত কারণে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন। নতুন এই আয়োজনে আবারও তাকে দেখা যাচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ উপস্থাপকের ভূমিকায়।
বঙ্গ বিডির প্রযোজনায় নির্মিত ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি’ অনুষ্ঠানে অভিনয়, সংগীত, সাহিত্য, নাটক, নৃত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনসংগ্রাম, সৃষ্টিশীলতা এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রথম পর্বে অতিথি ছিলেন খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা তারিক আনাম খান। আগামী পর্বগুলোতে থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, অভিনেতা আবুল হায়াত, সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, অদিতি মহসিন, নকীব খানসহ দেশের আরও অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানটির পরিচালক সাজ্জাদ হুসাইন জানান, দেশের কিংবদন্তি শিল্পী ও সংস্কৃতিজনদের জীবনকথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতেই এই আয়োজন। তার মতে, এসব অভিজ্ঞতা শুধু বর্তমান নয়, আগামী দিনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
মুনমুনকে উপস্থাপক হিসেবে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, তার স্বাভাবিক উপস্থাপনা, অতিথিকে স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতাই তাকে এই অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত করেছে।
১৩ পর্বের অনুষ্ঠানটির শুটিং শেষ করে ইতোমধ্যে কানাডায় ফিরে গেছেন মুনমুন। অনুষ্ঠানটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং দেশের গুণী মানুষের জীবন ও কর্ম দর্শকের সামনে অর্থবহভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকায় তিনি এ কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন রুমানা মালিক মুনমুন। পরে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ালেও সময়ের সঙ্গে উপস্থাপক হিসেবেই তিনি বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।