হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
সম্প্রতি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বেবিচক এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, যেসব বিদেশি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে নিজস্ব অপারেশনাল বেজ নেই, তারা অনুমোদিত সময়সূচি ও নির্ধারিত ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাবে না।
বেবিচক সূত্র জানায়, বর্তমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক এবং ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টারসহ প্রতিদিন প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, টার্মিনাল, অ্যারোব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন এবং ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা বিমানবন্দরের কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বেবিচকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য আগে কোনো স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলেও সেটিকে পরিচালনাগত অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তাই টার্মিনাল-৩ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আগ্রহী এয়ারলাইন্স চাইলে চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিতে পারবে।