ঢাকার ধামরাইয়ে একাধিক মামলার আসামী মোঃ ফিরোজ কবির (৪২)নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৯মে) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুনালাই গ্রামের ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে মোঃ সোহেলের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ফিরোজ কবির উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুনালাই গ্রামের মৃত আলহাজ এর পুত্র। সে এলাকায় মাদকের সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। তার নামে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে অর্জুনালাই গ্রামের ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সোহেলের দোকানের সামনে ২-৩জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে এলাকার লোকজন দৌড়ে গিয়ে ফিরোজকে উদ্ধার করে প্রথমে কাওয়ালীপাড়া বেসরকারী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা তাকে ধামরাই সরকারী হাসাপাতালে নেওয়ার কথা বলে। এরপর তাকে ধামরাই সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাঃ তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানান, বাড়ীতে বসেছিলাম এমন সময় শুনি ফিরোজকে কুপিয়ে মেরে ফেললো দৌড়িয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ফিরোজকে নিয়ে লোকজন কাওয়ালীপাড়া হাসপাতালে যায়। সেই হাসপাতালে থেকে ধামরাই সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
ফিরোজের চাচা মোঃ আবুল কাশেম সাংবাদিকদের, খবর পেয়ে দৌড়ে গিয়ে জানতে পারলাম জহিরুলসহ কয়েকজনে ফিরোজকে কুপিয়েছে। এলাকার লোকজন ফিরোজকে নিয়ে কাওয়ালীপাড়া হাসপাতালে গেছে। পরে কাওয়ালীপাড়া সীমান্ত হাসপাতালে গেলে সেখানকার ডাক্তার ফিরোজকে ধামরাই সরকারী হাসপাতালে পাঠায়। ধামরাই সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল ছালাম বলেন, ফিরোজ মাদকসহ একাধিক মামলার আসামী। সে গত ১৮এপ্রিল ঢাকা উত্তর ডিবির হাতে আটক হয়। গত (৫মে) ৪দিন আগে জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ীতে আসে।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, খরব পেয়ে দ্রুত গিয়ে ফিরোজের মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তার পেটে ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাতের চিহৃ রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকান্ডের পেছনে পূর্ব শক্রতা থাকতে পারে এবং তার পরিচিত লোকই তাকে হত্যা করেছে।