ঢাকার ধামরাইয়ে ফিরোজ কবির (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মো: জহিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুনালাই গ্রামের ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে এই হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহত ফিরোজের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে রবিউল বাদী হয়ে জহিরুলের নাম উল্লেখ্য করে দুই-তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ রাতেরই শেষ ভাগে অর্থাৎ রবিবার ভোররাতে গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুনালাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রধান আসামি মো: জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল আজিজ। নিহত ফিরোজ উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুনালাই গ্রামের মৃত আলহাজ্ব এর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত আসামী জহিরুল একই গ্রামের মোঃ জয়নালের ছেলে।
পরকীয়া এবং মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দের জের ধরে এই হত্যাকান্ত সংঘটিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিনগত রাতে অর্জুনালাই গ্রামের রাত ১০টার দিকে ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সোহেলের দোকানের সামনে মাদক ও জহিরুলের বোনের সাথে পরকীয়ার কারণে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ভুড়ি বের হত্যা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে জহিরুল। পরে স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে এলাকার লোকজন দৌড়ে গিয়ে ফিরোজকে উদ্ধার করে প্রথমে কাওয়ালীপাড়া বেসরকারী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ধামরাই সরকারী হাসাপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ধামরাই সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এই বিষয়ে নিহত ফিরোজের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে রবিউল সাংবাদিকদের জানায়, জহিরুল আমার বাবাকে ঈদগাহ মাঠে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আইনের কাছে আমি আমার বাবার হত্যাকারী জহিরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল আজিজ জানান, ফিরোজের সাথে জহিরুলের বোনের পরকীয়া সর্ম্পক এবং মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে ফিরোজকে অর্জুনালাই গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হাসপাতাল গিয়ে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ঐ রাতেই ধামরাই থানার ওসি মোঃ নাজমুল হুদা খান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গাংগুটিয়া বাজার এলাকা থেকে খুনি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দিতে জহিরুল ফিরোজকে খুনের কথা স্বীকার করেছে।