খালিয়াজুরীর রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের দ্বারা ১১ বছর বয়সী এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত ছাত্র মুগ্ধ তালুকদারকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকায় বসবাস করেন আর মুগ্ধ নানার বাড়ি বরান্তর গ্রামে থেকে স্কুলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে মুগ্ধ সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ তাকে মারধর করেন। এরপর ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করেন। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রটি জ্ঞান হারায়। সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন দ্রুত তার মাথায় পানি ঢেলে তাকে জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন।
ঘটনার পর শিক্ষক তাকে বাড়ি পাঠিয়ে হুমকি দেন যে, বিষয়টি বাড়িতে বললে আরও মারপিট করা হবে এবং শিক্ষার্থী ফেল করানো হবে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বাড়ি ফেরার পর রাতে মুগ্ধ কয়েকবার জ্ঞান হারান, বমি করেন এবং কানের রক্তপাত দেখা দেয়। উদ্বিগ্ন পরিবার রাতভর তার যত্ন নেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকার জানান, মাথার আঘাতটি গুরুতর। সিটি স্ক্যানের পরই যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা হবে। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
মুগ্ধর খালা মুক্তা খান অভিযোগ করেন, শিক্ষকের দ্বারা এমন মারধর কিভাবে সম্ভব হলো, তা আমরা জানতে চাই। আমরা চাই এই ঘটনায় ন্যায় বিচার হোক। মুগ্ধর বাবা-মা স্থানীয়ভাবে থাকেন না তাই আমরা তার দায়িত্ব পালন করছি।
স্থানীয়রা জানায়, শিক্ষক কাউসার শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায়ই এমন শারীরিক দমন ব্যবহার করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা চলছে। বুধবার শিক্ষা কর্মকর্তা এসে তদন্ত করবেন। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিমেল কদর জানান, এখনও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানায়নি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।