‘প্রতিবছর সবুজ ধানক্ষেতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিকৃতি ফুটে তুলে চমকে দেন স্কুল শিক্ষক জাফর সাদিক। এবার তিনি দুটি জাতের ধানের গোছা ও শীষ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ।’ ব্যস্ততম পাকা সড়কের পাশে সবুজ ধান ক্ষেতে বেগুণি রঙের পার্কেল জাতের ধান দিয়ে ফুটে তোলা জাতীয় স্মৃতি সৌধের আদলের দিকে চোখ গেলেই অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকেন পথচারী ও যাত্রীরা। অনেকে মাথা বের করে চোখেমুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পলক না ফেলেই তাকিয়ে থাকেন সেই ক্ষেতের দিকে। পথচারীদের এই আনন্দই শিক্ষক জাফর সাদিককে প্রতিবছর নতুন নতুন প্রতিকৃতির আদল আঁকাতে উৎসাহিত করে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা শহরের পৌসভা এলাকার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের স্কুল শিক্ষক জাফর সাদিক’র কৃষিভিত্তিক ব্যতিক্রম কর্মকান্ড। শিক্ষকতা পেশার যুক্ত এই ব্যক্তির রয়েছে কৃষির প্রতি প্রচন্ড টান ও ভালোবাসা। ব্যক্তিগতভাবে নিজের জমিতে নিজেই চাষাবাদে অংশগ্রহন করেন তিনি। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের নতুন নতুন জাতের গবেষণা লব্ধ জাতের ধান চাষে তিনি একজন অগ্রগামি কৃষক। এছাড়াও ধানের জমিতে বিভিন্ন নকশার আদল ফুটিয়ে তুলে চমকে দেন গ্রামবাসীসহ পথচারী মানুষদের। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তিনি তার কৃষি জমিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে নজর কেড়েছেন আগ্রহি মানুষের। জেলার উলিপুর উপজেলা থেকে রাজারহাট-রংপুরগামি ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে নাওডাঙ্গা গ্রামের পাকা সড়কের বামদিকে তার ১৭ শতক জমির উপর ব্রিধান-১১৩ ও ভিয়েতনামের বেগুনি রঙের ডায়েবেটিকস জাতের পার্কেল ধানের গোছা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতীয় স্মৃতি সৌধের আদল বা প্রতিকৃতি। তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধানক্ষেতে তোলা স্মৃতিসৌধের এই প্রতিচ্ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এটি শুধু এক কৃষকের শিল্প নয়, বরং শহীদদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশপ্রেমের জীবন্ত উদাহরণ।
ধানক্ষেতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি দেখতে আসা পার্শ্ববর্তী বাকরের হাটের এসএসসি পরীক্ষার্থী শরীফ আহমদ জানায়, আমরা বন্ধুরা দল বেঁধে এই অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে এসেছি।
ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার জন্য জাফর সাদিক মাস্টার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একজন প্রতিভাবান মানুষ। এর আগে তিনি জাতীয় পতাকা, পরের বছর বাংলাদেশের মানচিত্র এবং এ বছর জাতীয় স্মৃতিসৌধ এঁকেছেন। পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে অনেক ভালো লাগে। দূর-দুরান্ত থেকে অনেকে এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়।
উদ্যোক্তা জাফর সাদিক জানান, কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি এসব করছেন। নকশাগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য কুমিল্লা থেকে ভিয়েতনামের কার্পল জাতের বেগুনি রঙের ধানবীজ সংগ্রহ করেছেন। সেই বেগুন রঙের ধানের গোছা ও স্থানীয় জাতের ধানের গোছা দিয়ে এসব প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলেন। এবার ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ও সম্ভ্রমহানী নারীদের স্মৃতির জন্য নির্মিত স্মৃতিসৌধকে ধানক্ষেতে ফুটিয়ে তুলে এক ধরণের শিক্ষার বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি।
উলিপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে আমি বইয়ের মাধ্যমে শেখাই, আর মাঠে জমি কর্ষন করে ছবির মাধ্যমে তুলে ধরি বাংলাদেশের ইতিহাসের বীরত্ব। প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে আগ্রহী করে তুলি। তাদেরকে ইতিহাস জানতে হবে