পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, চলতি মাসের (এপ্রিল) মধ্যে দেশের ঝিনাইদহের শৈলকূপা এবং ফেনী জেলায় দুটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরো জানান, এটি সরকারের বৃহত্তর ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের একটি অংশ যা দেশের পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রী এ সম্পর্কে আরও জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন এবং এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী খাল খনন কর্মসূচির একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।
এছাড়া দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন ইতোমধ্যে করা হয়েছে যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ মূলত দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বুধবার সচিবালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, চলমান খাল খনন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, ১৮০ দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তারা জনগণের সামনে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছেন তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
এছাড়া ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির লক্ষ্য সময়মতো বাস্তবায়ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের পানি সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে অনেক নদী ও খাল দখল হয়ে গেছে এবং অনেক নদী বর্তমানে মৃত অবস্থায় রয়েছে। এসব নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। যেমন : অনেক জায়গায় বর্জ্য, আবর্জনা এবং অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। এগুলোকে অবমুক্ত করতে হবে এবং সেজন্য কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, খাল খনন ও নদী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সফল করতে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সরকার সম্পূর্ণ উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে যাতে প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত করা যায়।
পাশাপাশি গঙ্গা চুক্তি সম্পর্কিত বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং টেকনিক্যাল টিম নিয়মিতভাবে এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে এবং টেকনিক্যাল টিম কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করছে। আমরা গঙ্গা চুক্তি বিষয়ক চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এছাড়াও মন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে একটি রুটিন মিটিং চলছে। বর্তমানে কারিগরি এক্সপার্টরা কাজ করে যাচ্ছেন তবে এটি সম্পূর্ণ সমাধান এখনও হয়নি। মন্ত্রী বলেন, আমরা এই কাজ অব্যাহত রেখেছি এবং নিয়মিত মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সামাল দিচ্ছি।
পানি সংরক্ষণ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষত দেশের দখল হওয়া নদী এবং মৃত নদীগুলো পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির সাফল্য সরকারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে। সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা নিশ্চিত করবে যে তারা এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী পানি সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।