রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মে মাসে ৬৭৬ দুর্ঘটনা, নিহত ৬৭১: মে মাসে বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম ১০ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে জয়ার ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিক্যুয়াল বড় আকারেরও বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য: এফবিসিসিআই আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল সমর্থকদের রঙিন র‍্যালিতে ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপল নীলফামারী সাভারে পেশাদার ৩মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শার্শা বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক মোরেলগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মানববন্ধন মোরেলগঞ্জে ১০ লাখ নকল সিগারেটসহ চোরাই মালামাল ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার ধামরাইয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রতিটি নাগরিকের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই’ : মির্জা ফখরুল সব নাগরিককে বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী মোড়েলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত পাতলী খালের পুন:খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এবার বিদায় রাজ্যসভা থেকে কোয়েল মল্লিকের ফাহিমার জন্য ন্যায়বিচার চাই: রোটারিয়ান ড. মীর শাহ আলম সাইবার সুরক্ষা আইনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, ভুয়া কনটেন্ট অপসারণে আসছে নতুন বিধান বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৯ হাজার ২০১ প্রার্থী প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র সালমান শাহর মাকে হুমকির অভিযোগ: কী বললেন অভিনেতা শিবা শানু?
Notice :

মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা

বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনা, লাইসেন্সের মেয়াদ ছাড়া বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান চালানো এবং শয্যা জালিয়াতি করে বাণিজ্য করার মতো ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে।

মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নজর দিলে দেখা যায়, বিশেষ করে ‘অ্যাপোলো হাসপাতাল’ এর লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও এটি অবৈধভাবে চলমান। হাসপাতালটিতে নেই কোনো স্থায়ী সোনোলজিস্ট বা রেডিওলজিস্ট, এমনকি অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং এক্স-রে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এছাড়া ১০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও এখানে ১৭ শয্যা পরিচালনা করা হচ্ছে যা স্বাভাবিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে ‘মানিকগঞ্জ অর্থোপেডিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল’-এরও ২০২৩ সালে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে অথচ হাসপাতালটি এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ শিশু এন্ড জেনারেল হাসপাতালে যেখানে লাইসেন্স ২০২৩ সালের জুনে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন অনুমোদন দেয়নি। তবে হাসপাতালের পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে, এবং অনুমোদিত ২০ শয্যার বদলে সেখানে ৮০ শয্যা পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, হাসপাতালের স্টোর রুম এবং নামাজের ঘরেও রোগী রাখা হচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় নার্স স্টেশন না থাকলেও কেবিন বানিয়ে রোগী রাখা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে এসব অনিয়মের কথা প্রকাশ হওয়ার পর হাসপাতালের দুই পরিচালক পালিয়ে যান এবং ম্যানেজার কাইয়ুম আলী ফাহাদ সাংবাদিকদের প্রতিবেদন সংগ্রহে বাধা দেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিচালক মো. জিয়াউল হক জুয়েল সাংবাদিকদের সাথে উদ্ধত আচরণ করেন এবং ২০ শয্যার জায়গায় ৮০ শয্যা চালানোর বিষয়টিকে ‘মানবসেবা’ বলে দাবি করেন তবে শয্যা জালিয়াতি ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে হাসপাতালের আরেক পরিচালক মো. সেলিম মিয়া মুঠোফোনে লাইসেন্স না থাকা ও ২০ শয্যার অনুমোদনের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মুফাখখারুল ইসলাম বলেন, এখানে বেশ কিছু অপরিকল্পিত হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। লাইসেন্স না থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত শয্যা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাতে এই ধরনের অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে সুষ্ঠু পরিচালনা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *