গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন না করলে দেশ সাংবিধানিক ও আস্থার সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি দ্রুত গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন আহ্বানের আহ্বান জানান।
সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
শিশির মনির বলেন, জনগণ যদি গণভোটে কোনো সিদ্ধান্ত দেয় তা বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্র নতুন করে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তার মতে, গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান সাধারণ সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে ঘটলেও পরবর্তীতে তা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুললে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত বিষয়টি সেখানে তোলা হতে পারে। আদালত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের বিপক্ষে রায় আসা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই আইনজীবী বলেন, গণভোটের ফল মেনে ১৮০ দিনের জন্য একটি সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। এরপর সংসদকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে ভাগ করার পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে উচ্চকক্ষ ১০০ সদস্যের হবে এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন বণ্টন হবে।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন—গণভোটে জনগণের রায় উপেক্ষা করার কোনো নজির আন্তর্জাতিকভাবে নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়ায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।