‘বৈশ্বিক অস্থিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই সভায় দেশের ও বিদেশের পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (ডব্লিউকেবি), এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ (এফএফটি)।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল) বলেন, জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে অপরিকল্পনার কারণে পরিবেশ ও অর্থনীতির ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় মূল আলোচকরা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ সংগঠন Riverfox Environmental এর সিইও ডোনা লিসেনবি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
এশিয়া প্যাসিফিক ভিত্তিক সংগঠন Asian Peoples Movement on Debt and Development এর সমন্বয়কারী লিডি ন্যাকপিল বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ফেলেছে। তিনি জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের জলবায়ু আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, বিদ্যমান বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত সম্প্রসারণ করা জরুরি।
পরিবেশবিদ শরীফ জামিল রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়ী এলাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির কথা তুলে ধরে বলেন, অপরিকল্পিত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উন্নয়ন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।