ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয় যেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে।
মনোনয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থেকে নির্যাতন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, সেই ত্যাগী নারী নেত্রীদেরই সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করা হবে। তার ভাষায়, এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দল শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা জানান, বিএনপির নারী সংগঠনের নেত্রীদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে বিগত সময়ে বিরোধী রাজনীতিতে অংশ নিয়ে যারা কারাবরণ, হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিষয়ে আলাদা মূল্যায়ন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলটি জানিয়েছে, মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা।
দলীয় নেতৃত্ব মনে করছে, এসব মানদণ্ড অনুসরণ করলে সংসদে যোগ্য ও কার্যকর নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মনোনয়ন কার্যক্রম ঘিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল থেকেই নারী নেত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফরম সংগ্রহ করেন, আবার কেউ দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা জানান।
সব মিলিয়ে বিএনপির এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে দলীয় পুনর্গঠন ও নারী নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের মূল্যায়নের ঘোষণা এই প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।