ঢাকার ধামরাইয়ে বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে গিয়ে মোঃ আব্দুস সালাম (১৩)নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ২৬ঘন্টা পর নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল।
আজ বৃহস্পতিবার (৪জুন) বিকাল ৫টার সময় ধামরাই পৌরসভার ইসলামপুর বংশী নদী থেকে আব্দুস সালামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত আব্দুস সালাম পৌরসভার ইসলামপুর পঞ্চাশ এলাকার মোঃ আব্দুস সেলিম খানের ছেলে। সে ইসলামপুর এলাকায় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার(৩জুন) বেলা ২টার দিকে আব্দুস সালামসহ তিন বন্ধু মিলে বংশী নদীতে গোসল করতে যায়। এই সময় দুই বন্ধু বালুর ট্রলার থেকে নদীতে লাফ দিয়ে গোসল করতে থাকে। কিন্তু আব্দুস সালাম সাতাঁর না জানায় সে সহজে নদীতে নামতে চায় নাই। কিন্তু দুই বন্ধু তাকে বালুর ট্রলার থেকে লাফাতে বললে সালাম নদীতে লাফ দিয়ে পানির নিচে ডুবে যায়। পড়ে তাকে বাচাঁতে দুই বন্ধু অনেক খোজাঁখুঁজি করে তাকে না পেয়ে আশে পাশের লোকজনকে জানায়। এরপর তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে নদীতে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে আর পায়নি। পরে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের অফিসার আল-আমিন খান এর নেতৃত্বে একটি ডুবুরী ইউনিট বংশী নদীতে দীর্ঘ সময় পানির নিচে খুজেঁ ব্যর্থ হন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় বংশী নদীতে ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অবশেষে বিকাল ৫টার দিকে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে লাশটি ভেসে উঠতে দেখেন ডুবুরীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা লাশটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এই বিষয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল-আমিন খান বলেন, বুধবার বেলা দুইটার দিকে আব্দুস সালাম নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র পানিতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বংশী নদীতে রাত পর্যন্ত খুজেঁ না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বংশী নদীতে পুনরায় ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এর মধ্যে বেলা ৫টার দিকে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে দুই কিলোমিটার দুরে ২৬ঘন্টা পর লাশটি ভেসে উঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল লাশটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তারেক পারভেজ বলেন, বংশী নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তি আব্দুস সালামকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল উদ্ধার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই ঘটনায় আমাদের আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়না তদন্তের বিষয়টি পরিবারের উপর নির্ভর করছে।