রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই তিনি দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে তিনি সচিবালয় থেকে বেরিয়ে যান। বৃহস্পতিবার তার কোনো সরকারি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য পদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকেও তাকে সরে দাঁড়াতে হবে। তার সংসদীয় আসন শূন্য হলে সেখানে পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।
একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো একটি মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে বিকল্প মনোনয়নপত্রটি বিবেচনার সুযোগ রাখতেই এ ব্যবস্থা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে থাকেন। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে।
ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সে প্রশ্নের উত্তর কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেছে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।