মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড়

কথাভিশন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে পরের জায়গার উপর নির্মিত স্বামীর রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ নড়বড়ে ঘরেই ৮ সন্তানের জননী বিধবা বৃদ্ধা আলো রাণী সাহার মানবেতর বসবাস।

জরাজীর্ণ ও অসংখ্য ছিদ্রে ঝাঝড়া টিনের চালা। বেড়া একেবারেই ভাঙ্গাচুরা । জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচুরা চালার নিচে পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন আলো রাণী। অর্থের অভাবে তার জীর্ণশীর্ণ ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না এই বিধবা বৃদ্ধা।

জরাজীর্ণ নড়বড়ে ভাঙ্গা টিনের এ ঘরখানা কখন যে মাথার উপর ভেঙ্গে পরে সেই দু:শ্চিন্তায় আশঙকাগ্রস্ত ঢাকার ধামরাইয়ের এই বিধবা বৃদ্ধা। তার মানবেতর জীবন যাপনের দৃশ্য সচক্ষে দেখলে যে কোন মানুষকে তা ব্যথিত করবে।

জানা যায়, উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া গ্রামের নগেন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী আলো রাণীর ৮ সন্তান নিয়ে যখন মাথা গোঁজার ঠাই ছিল না তখন ১৯৮৬ সালের দিকে ওই দম্পত্তিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন একই গ্রামের রহমত উল্লাহ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। আলো রাণীর পরিবারের দু:খ দুর্দশা দেখে রহমত উল্লাহ বেপারী তার নিজ জমিতে ঘর বানিয়ে থাকার অনুমতি দিয়ে মাথা গুজার ঠাঁই করে দেন।

পরবর্তীতে আলো রানীর স্বামী প্রয়াত হলে তার সংসারে নেমে অভাবের আরো ঘন কালো অন্ধকার।

অতি দরিদ্র অসহায় এই পরিবারটির দুরবস্থা দেখে ৯০ এর দশকের দিকে মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য একই এলাকায় আলো রানী সাহার নামে ১৫ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দেয় সরকার।

সরকারী জমি বন্দোবস্ত পেলেও আজ পর্যন্ত তিনি সেই জমিতে দখলে যেতে পারেননি। নিরুপায় হয়ে অন্যের জায়গায় স্বামীর রেখে যাওয়া সেই পুরোনো জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরটি এতটাই জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে যে, যে কোন সময় তা একেবারেই খসে পড়তে পারে।

আলো রানী সাহা সাংবাদিকদের জানান, তার সন্তানরা এখন নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, তারা তাঁর খোঁজখবরও নেয় না।

তিনি আরও জানান, ঘরটা অনেক দিনের পুরোনো ও ভাঙ্গা বলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। কাগজ-পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে নির্ঘুম রাত কাটান তিনি। বেশি বৃষ্টি হলে আশেপাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলো রাণী বলেন, বসবাস করার মতো একটা ঘর হলে জীবনের বাকি সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।

তিনি আরো বলেন, কখন যে জায়গার মালিক আমাকে তার জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলে সেই চিন্তায় আমার ঘুম আসেনা বাবা।

স্থানীয়রা মনে করেন, অসহায় এই বিধবা বৃদ্ধার বসবাসের জন্য একটি ঘর অত্যন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে প্রতিবেদনটি প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বিধবা বৃদ্ধা আলো রানী সাহার শেষ জীবনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *