ঢাকার ধামরাইয়ে পরের জায়গার উপর নির্মিত স্বামীর রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ নড়বড়ে ঘরেই ৮ সন্তানের জননী বিধবা বৃদ্ধা আলো রাণী সাহার মানবেতর বসবাস।
জরাজীর্ণ ও অসংখ্য ছিদ্রে ঝাঝড়া টিনের চালা। বেড়া একেবারেই ভাঙ্গাচুরা । জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচুরা চালার নিচে পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন আলো রাণী। অর্থের অভাবে তার জীর্ণশীর্ণ ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না এই বিধবা বৃদ্ধা।
জরাজীর্ণ নড়বড়ে ভাঙ্গা টিনের এ ঘরখানা কখন যে মাথার উপর ভেঙ্গে পরে সেই দু:শ্চিন্তায় আশঙকাগ্রস্ত ঢাকার ধামরাইয়ের এই বিধবা বৃদ্ধা। তার মানবেতর জীবন যাপনের দৃশ্য সচক্ষে দেখলে যে কোন মানুষকে তা ব্যথিত করবে।
জানা যায়, উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া গ্রামের নগেন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী আলো রাণীর ৮ সন্তান নিয়ে যখন মাথা গোঁজার ঠাই ছিল না তখন ১৯৮৬ সালের দিকে ওই দম্পত্তিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন একই গ্রামের রহমত উল্লাহ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। আলো রাণীর পরিবারের দু:খ দুর্দশা দেখে রহমত উল্লাহ বেপারী তার নিজ জমিতে ঘর বানিয়ে থাকার অনুমতি দিয়ে মাথা গুজার ঠাঁই করে দেন।
পরবর্তীতে আলো রানীর স্বামী প্রয়াত হলে তার সংসারে নেমে অভাবের আরো ঘন কালো অন্ধকার।
অতি দরিদ্র অসহায় এই পরিবারটির দুরবস্থা দেখে ৯০ এর দশকের দিকে মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য একই এলাকায় আলো রানী সাহার নামে ১৫ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দেয় সরকার।
সরকারী জমি বন্দোবস্ত পেলেও আজ পর্যন্ত তিনি সেই জমিতে দখলে যেতে পারেননি। নিরুপায় হয়ে অন্যের জায়গায় স্বামীর রেখে যাওয়া সেই পুরোনো জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরটি এতটাই জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে যে, যে কোন সময় তা একেবারেই খসে পড়তে পারে।
আলো রানী সাহা সাংবাদিকদের জানান, তার সন্তানরা এখন নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, তারা তাঁর খোঁজখবরও নেয় না।
তিনি আরও জানান, ঘরটা অনেক দিনের পুরোনো ও ভাঙ্গা বলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। কাগজ-পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে নির্ঘুম রাত কাটান তিনি। বেশি বৃষ্টি হলে আশেপাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলো রাণী বলেন, বসবাস করার মতো একটা ঘর হলে জীবনের বাকি সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।
তিনি আরো বলেন, কখন যে জায়গার মালিক আমাকে তার জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলে সেই চিন্তায় আমার ঘুম আসেনা বাবা।
স্থানীয়রা মনে করেন, অসহায় এই বিধবা বৃদ্ধার বসবাসের জন্য একটি ঘর অত্যন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে প্রতিবেদনটি প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বিধবা বৃদ্ধা আলো রানী সাহার শেষ জীবনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।