গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কৃষি কার্ড নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরে ডিজেল না পেয়ে সেচ নিয়ে আসছেন কৃষক।
জ্বালানি পেতে ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কৃষকদের। জ্বালানি তেলের সংকটে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও সেচকাজ। জ্বালানি তেল ঠিকমতো না পাওযায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ডিজেল নিতে পাম্পগুলোতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি কারো হাতে তেল নেওয়ার ক্যান বা বোতল, আবার কেউ শ্যালো মেশিনের ফুয়েল ট্যাংক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ফজর নামাজের পর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় কৃষকদের।
তারা বলছেন, ডিজেল না থাকায় গত কয়েক দিন থেকে বন্ধ রয়েছে ডিজেল চালিত অধিকাংশ সেচ পাম্প পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
অনেক জায়গায় ধানের চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে মাঠের এই ফাটল কেবল মাটির নয় বরং কৃষকের বুক চেরা হাহাকার। সোনালি স্বপ্নের বদলে এখন তাদের চোখমুখে কেবলই অন্ধকারের হাতছানি।
স্থানীয় কার্ডধারী কৃষক আজাদুল ইসলাম, সরদার আলী, তোফাজ্জল হকসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন ধরেই কৃষি কার্ড নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছি না। সেই ভোররাত থেকে পাম্পে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক সময় তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যেটুকু তেল পাওয়া যায় তা একেবারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার, ধান কাটার মেশিন ও ট্রাক্টর সচল না থাকায় অনেক কৃষিজমির কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এতে কৃষকেরা সময়মতো চাষাবাদ ও ফসল সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আইযুব আলীর অভিযোগ, এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও তা অনিয়মের মাধ্যমে বাইরে গুদামজাত করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ কৃষকেরা ন্যায্যভাবে জ্বালানি পাচ্ছেন না।
এদিকে সুন্দরগঞ্জ পশ্চিম বাইপাস মোড়ের একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, তারা মাত্র আড়াই হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এই সীমিত জ্বালানি ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন এবং কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় কৃষকেরা খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, কৃষি উৎপাদনে সেচ ও যান্ত্রিক চাষাবাদের জন্য ডিজেলের চাহিদা বর্তমানে বেশি। সামনে এই চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ডিজেল সংকটের সমাধান হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, কৃষকদের ফুয়েল কার্ডের জন্য কৃষি অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক কৃষক আবেদন করেছেন।