যেসবার শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের পরদিন থেকে শপথের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব আয়োজন দ্রুতগতিতে চলছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে; এর বেশি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে স্পিকারের অবর্তমানে কে শপথ পাঠ করাবেন সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য জানাননি তিনি। নির্বাচনের পরদিন থেকে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, এই বিষয়গুলো পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। শপথের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে। অলরেডি এমপিদের গেজেট প্রকাশ হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো খুব দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবারও কাজ করেছেন। আজকেও প্রধান উপদেষ্টা কাজ করছেন এবং পুরো টিম কাজ করছে। ক্যাবিনেট কাজ করছে স্মুথ ট্রানজিশনের জন্য।
সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বঙ্গভবন প্রস্তুতের পুরো বিষয়টি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তদারকি করছেন বলেও জানিয়েছে প্রেস সচিব।
এর আগে গণভোট ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
সংসদ নির্বাচনের দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয় বৃহস্পতিবার। অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোটও। এর মধ্যে ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন। তিনিই নতুন সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। সংসদে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ৬৮টি আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী।
ভোটের পর দিন শুক্রবার নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন শামসুল হক টুকু। তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
যদিও তিন দিন পরে সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।
এদিকে নতুন সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধীদলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।