বাগেরহাট জেলার রামপাল এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা ধীরে ধীরে শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় এখনো শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
নিহতদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়স্বজনরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা এই শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করে রামপাল থানায় মামলা করেছেন নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম জনি। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত দুর্ঘটনার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন হওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাছে বিশেষজ্ঞ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় চোখের সামনে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হারানো আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অনেক আত্মীয়স্বজন ছুটে এসেছিলেন। এখন ধীরে ধীরে তারা ফিরে যাচ্ছেন। সব হারিয়ে এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করেই বেঁচে আছেন বলে জানান তিনি।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন।
পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেদিন রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।