এপ্রিলের দাবদাহে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে
চৈত্র মাসের শেষ এবং বৈশাখ মাসের শুরুতে দেশের আবহাওয়া গরম ও চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতার প্রয়োজন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশে ২ থেকে ৪টি মৃদু তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে তাপমাত্রা ৩৬–৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠতে পারে। তবে এক বা দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
চৈত্র মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ ছিল তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী ঝড়, হালকা ও ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে।
মার্চ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি ওঠেনি; সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি কম ছিল।
১৫ চৈত্রের পর থেকে গরম বাড়তে শুরু করেছে। সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামনের চৈত্র-বৈশাখে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একাধিক তাপপ্রবাহের সঙ্গে একই সময়ে কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি এবং উপকূলবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
গরমের তীব্রতায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে যা নিম্নচাপে রূপ নিয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এতে উপকূলীয় জেলা, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পটুয়াখালী অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হবে। আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে, উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ যেন ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকে।
গরম ও তীব্র সূর্যের প্রভাবে ক্ষুদ্র কৃষি ফসল, তরমুজ, ধান ও সবজি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পানির চাহিদা ও মাটি শুকনো হওয়ার কারণে সেচ ব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়ে যাবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমের মধ্যে বেশি সময় বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত পানি এবং হালকা খাবার গ্রহণ অপরিহার্য।
এ সময় ঘরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। প্রচুর পানি পান করুন ও হালকা, সহজপাচ্য খাবার খান। গরম ও সূর্যের তীব্রতা বেশি হলে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন। উপকূলীয় এলাকার মানুষ ঝড় বা বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়মিত মনিটর করুন।