বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

গরমে বিদ্যুৎ সংকট : দিনে লোডশেডিং ২-৩ ঘণ্টা জনজীবন ও ব্যবসায় প্রভাব বিশ্লেষণ

কথাভিশন ডেস্ক

গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে দিনব্যাপী লোডশেডিং হতে পারে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এ পরিস্থিতি শুধুমাত্র ঘরে আলো নষ্ট করবে না, ব্যবসা, শিক্ষা এবং গণপরিবহন ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উৎস আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েল। গ্যাস সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও সরাসরি উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ যদি ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে, উৎপাদন ৪,৫০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যেতে পারে, যখন এপ্রিল-মে মাসে চাহিদা পৌঁছাতে পারে ১৮,৫০০ মেগাওয়াটে।

এর মানে বিদ্যুৎ খাত প্রাকৃতিক কারণে অনিরাপদ অবস্থায় এবং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং অনিবার্য হতে পারে।

সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

দোকানপাট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম: সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা।
সরকারি ও বেসরকারি যানবাহন: সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৭০% কমানো এবং ‘কারপুলিং’ উৎসাহিত করা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সপ্তাহে অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার প্রস্তাব।
জনসচেতনতা: জনগণকে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য আহ্বান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপগুলো সমস্যার মূল সমাধান নয়, বরং চাহিদা সাময়িকভাবে সামলানোর একটি সীমিত ব্যবস্থা।

ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চললেও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মূল প্রতিকূলতা হলো: দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হলে বাণিজ্যিক এলাকা অন্ধকারে পড়ে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব করেছেন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা, বড় গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ কমানো এবং ‘অড-ইভেন’ পদ্ধতি চালু করা।

একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, শুধু দোকানের সময় সীমিত করা সমস্যার সমাধান নয়, বরং বিদ্যুতের ব্যবহার, সরবরাহ ও অপ্রয়োজনীয় লোড নিয়ন্ত্রণ করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

এপ্রিল-মে মাসে তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যুতের সীমিত উৎপাদন ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কিন্তু জনগণ ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত থাকা ছাড়া শঙ্কা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়।

বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংকট কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; এটি সমাজ, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সচেতন ব্যবহার ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *