বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে

কথাভিশন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে। এটি ঘোষণা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছে যা তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল তার নিজ কার্যালয়ে বলেন, মঙ্গলবার হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি রায়টি বিস্তারিতভাবে পড়েছি। এটি সংবিধানের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কিছু অন্যান্য নির্দেশনা দিয়েছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এই নির্দেশনা চূড়ান্ত নয় এবং বিষয়টি চূড়্যভাবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের মাধ্যমে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের কাছে যাবে। সংবিধান ও বিচার বিভাগের কাঠামোগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এই রায় এবং আপিল প্রক্রিয়াটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারে। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম।

তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত সেহেতু দ্রুত আপিল দায়ের করা হবে।

মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এ বিধান বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। ফলে এ দায়িত্ব এখন সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো।

একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সাত আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিয়োজিত ব্যক্তিদের এবং বিচারিক দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত, যা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করা হয়।

রিটকারীদের আইনজীবীদের মতে, এ ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।

১৯৭২ সালের সংবিধানে এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে’ শব্দগুলো যুক্ত হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান বহাল রাখা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *