মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

পুষ্টিকর খাবারের নামে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে নষ্ট কলা

নিজস্ব প্রতিনিধি

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পুষ্টিকর খাবারের বদলে নষ্ট ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধ এই পাঁচ উপাদানের মধ্যে অন্তত দুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে তালিকা অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নলছিটি উপজেলার ৯৮ নং অনুরাগ গৌরীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঁচা কলা বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা কলার অধিকাংশই ছিল পঁচা, কালো দাগযুক্ত এবং খাওয়ার অনুপযোগী। এসব কলা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তারা সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অভিভাবকদের তোপের মুখে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এ এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার বিতরণ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই খাদ্যের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের টিফিনে দেওয়া খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা খাওয়ার অনুপযোগী।

সরবরাহের চালান (নং-২৭৯৩০) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। চালানে বনরুটি ১২০ গ্রাম, কলা ১০০ গ্রাম এবং সিদ্ধ ডিম ৬০ গ্রাম সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, কলা সরবরাহের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো এজেন্ট নিম্নমানের কলা সরবরাহ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় এজেন্ট সজল ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৪ হাজার কলা সরবরাহ করতে হয়। এত বড় পরিমাণ সরবরাহে কিছু কলার মান খারাপ হতে পারে। কলাগুলো রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয়, পরিবহনের সময় কিছু কলায় দাগ পড়ে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন বেগম সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রতিটা স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বলে দেওয়া হয়েছে যদি কোন স্কুলে পচা কলা নিয়ে আসে তাহলে সেই কল ফেরত দিতে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *