রাজধানীর শ্যামলীর সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আলোচিত এই ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্যখাত, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে এক ক্ষুদে বার্তায় জানায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় তার আরও ছয় সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। পরে তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আক্কাস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. সুমন, মো. লিটন মিয়া, শাওন ও স্বপন কাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ এপ্রিল। সেদিন সকাল থেকে শুরু হয়ে রাতে চরম আকার নেয় চাঁদাবাজির ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঈন উদ্দিন দলবল নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে এবং যুবদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন তিনি। এমনকি চিকিৎসককে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার পরদিন ১১ এপ্রিল, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭–৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এই ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে কারণ হাসপাতালটি পরিচালনা করেন দেশের সুপরিচিত কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলাম। মানবিক চিকিৎসাসেবার জন্য পরিচিত এই চিকিৎসক ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি রোগীকে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ফলে তার প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পরপরই যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা হাসপাতালে গিয়ে ডা. কামরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, মঈন উদ্দিনের সঙ্গে বর্তমানে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি চাঁদাবাজির মামলাই নয় বরং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।
বিশেষ করে জনসেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ ধরনের চাপে পড়ে তাহলে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।