পশ্চিমবঙ্গে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। দিনশেষে জানা যাবে, রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের সরকার কার হাতে চলে যাবে। এই মুহূর্তে এনডিটিভি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সকাল ১০টার দিকে ভোটগণনায় বিজেপি ১৫৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে যখন তৃণমূল ১১৮টি আসনে এগিয়ে আছে।
রাজ্যের আগামী সরকারের ভবিষ্যত এখনো স্পষ্ট নয়। পশ্চিমবঙ্গের নীলবাড়ি নবান্নের ১৪ তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরে আসবেন না কি দেড় দশক পর পরিবর্তন হবে এবং প্রশাসন দখল করবে বিজেপি? সোমবার দুপুরের মধ্যে ভোটের ফলাফল থেকে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
ভোটগ্রহণের প্রথম দফায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে, বিশেষ করে কোন দলের দুর্গে ফাটল ধরেছে সেটা নিয়ে।
২০২৬ সালের ভোটে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ভবানীপুর। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লড়াই করবেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এমনই একটি লড়াই হয়েছিল তবে ভবানীপুরের এই সম্মুখসমর রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার লড়াই।
এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল কিন্তু ভোট পরবর্তী হিংসার শঙ্কা রাজ্যবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে টাটকা। দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবির, বিজেপি এবং তৃণমূল, নেতাদের আগ্রাসী মন্তব্য নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এবারের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনাও ছিল। ভোটের সময়ে বড় ধরনের গোলমাল, বোমাবাজি, বুথ দখল কিংবা ছাপ্পা ভোট হয়নি। তবে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষকে ‘বিনা বিচারে’ ভোটের বাইরে রাখায় কমিশনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যতই ভোট গণনা এগোচ্ছে ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে যাচ্ছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, দু’পক্ষই নিজেদের ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তবে ভোটের শেষে কী ফলাফল আসবে তা জানার জন্য সোমবার দুপুরের পর রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সাথে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতেও ভোটগণনা চলছে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয় বরং গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।