সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের এক মণ ধানের দামে মিলছে না শ্রমিক

বিশেষ প্রতিনিধি

‘একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর মাঝেমধ্যে বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, কিছুই বুঝতে পারছি না’। কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম।

শেরপুরে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে পুরো দমে। কিন্তু কষ্টে ফলানো ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও তারা পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী স্থানীয় কৃষকরা জানায়, শেরপুরে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের গারো পাহাড় এলাকায় চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান দোল খাচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি। এতে বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওর সাথে শুরু হয়েছে পাহাড়ি এলাকার বন্য হাতির তাণ্ডবের আশঙ্কা।

এদিকে একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ এক মণ ধানের দামেই একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।

ঝিনাইগাতী উপজেলার বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মন্ডল বলেন, ‘ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তারা বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

মাঠের কৃষকেরা আরও বলছেন, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতীতে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কাটা হবে।

কৃষকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই যেন কেটে ফেলেন। বলা যায় না, শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *